>
>
>

ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয় পদ্ধতি

  মডার্ন ক্যান্সার হসপিটাল গুয়াংজৌ গবেষণায় দেখেছে যে, সব ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে ১০% ই ব্রেস্ট ক্যান্সার। এই ক্যান্সারটি মহিলাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। এমন অনেক মহিলা আছেন যারা ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে কিছুই জানেন না। একারনেই তারা উপযুক্ত সময়ে ক্যান্সার সনাক্ত করতে ও চিকিৎসা নিতে দেরি করে ফেলেন। ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়েছে কিনা তা কিভাবে বুঝবেন? এই ক্যান্সার সনাক্ত করার জন্য কি কি পদ্ধতি আছে? নিচে আমরা এসব বিষয়েই আলোচনা করব।
  

  ব্রেস্ট ক্যান্সার ডায়াগনোসিস পদ্ধতিঃ

  
  ১. আলট্রা সাউন্ড ইমেইজিং এক্সামিনেশনঃ এর সাহায্যে ব্রেস্ট এ কোন ধরনের ক্ষত আছে কিনা এবং ক্ষতের আকার, আকৃতি, ধরণ (সিস্ট নাকি সলিড) ইত্যাদি বিষয়ে জানা যায়। টিউমারটি বিনাইন নাকি ম্যালিগন্যান্ট তাও সনাক্ত করা যায়। ৩০ বছর বা এর বেশী বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে আলট্রা সাউন্ড এক্সামিনেশন দ্বারা ৮০% থেকে ৮৫% পর্যন্ত সঠিক ভাবে ক্যান্সার সনাক্ত করা যায়।
  
  ২. থার্মাল ইমেইজিং এক্সামিনেশনঃ এর মাধ্যমে শরীরের কোন স্থানের তাপমাত্রা কেমন তা ইমেইজের সাহায্যে নির্ণয় করা যায়। ক্যান্সার কোষ গুলোর তাপমাত্রা আশপাশের স্বাভাবিক টিস্যু গুলো থেকে বেশী থাকে। এভাবে তাপমাত্রার পার্থক্য সনাক্ত করে ক্যান্সার নির্ণয় করা হয়। কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে এই পরীক্ষাটির মাধ্যমে খুব সঠিকভাবে ক্যান্সার নির্ণয় করা যায় না বিধায় আজকাল ক্যান্সার নির্ণয়ে এটি খুবই কম ব্যবহৃত হয়।
  
  ৩. সি. টি. স্ক্যানঃ এর সাহায্যে ব্রেস্ট এ কোন প্রকার ক্ষত আছে কিনা তা বোঝা যায় এবং এবং ক্যান্সার থাকলে তা কোন পর্যায়ে আছে তাও নির্ণয় করা হয়। এছাড়াও বগল বা ব্রেস্ট এর লসিকা গ্রন্থিতে কোন ডেলা বা মাংসপিণ্ড আছে কিনা তাও জানা যায় এর ফলে চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রণয়নে সুবিধা হয়।
  
  ৪. ক্যান্সার মার্কার এক্সামিনেশনঃ ক্যান্সারাইজেশনের সময় ক্যান্সার কোষের দ্বারা একধরনের পদার্থ উৎপন্ন হয় যা সরাসরি সেল টিস্যুর উপাদান নিঃসৃত করে এবং ক্যান্সার সেল বা বডি ফ্লুয়িড অ্যান্টিজেন, এনজাইম,হরমোন ইত্যাদি হিসেবে থেকে যায়। এই ধরনের উপাদানকে ক্যান্সার মার্কার বলা হয় এবং এগুলো সনাক্তকরণের পদ্ধতি গুলো হল কারসিনোএম্ব্রায়নিক অ্যান্টিজেন (সি.ই.এ), আয়রন প্রোটিন, মোনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ইত্যাদি।
  
  ৫. বায়প্সিঃ ব্রেস্ট ক্যান্সারের জন্য বিভিন্ন সনাক্তকরন পদ্ধতি থাক্লেও বায়প্সির মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে ক্যান্সার সনাক্ত করা যায়।
  
  ক. নীড্‌ল বায়প্সিঃ এটি একটি সাধারন এবং নিরাপদ বায়প্সি। ক্যান্সার প্রতিরোধের সাধারন জরিপেও এটি ব্যবহৃত হয়। যদি ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস এ ম্যালিগন্যান্ট এবং সাইটোলোজিক্যাল ডায়াগনোসিস এ বিনাইন টিউমার ধরা পরে তাহলে কন্তি সঠিক তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সার্জিক্যাল বায়প্সি করা হয়।
  
  খ.ইন্সিশনাল বায়প্সিঃ এই ধরনের বায়প্সিতে ক্যান্সার ছড়িয়ে যাওয়ার ভই থাকে বিধায় এটি তেমন ব্যবহার করা হয় না। শুধুমাত্র পরিণত পর্যায়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ক্যান্সারের প্যাথোলোজিকাল টাইপ সনাক্ত করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
  
  গ. এক্সিশনাল বায়প্সিঃ যদি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার আছে বলে মনে করা হয় সেক্ষেত্রে টিউমারের আশপাশের টিস্যু নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য এক্সিশনাল বায়প্সি করা হয়। সাধারণত এক্ষেত্রে টিউমারের আশপাশের ১ সে.মি. পর্যন্ত জায়গার ভেতর থেকে টিস্যু নিয়ে এই পরীক্ষাটি করা হয়।
  

  নিজে যেভাবে পরীক্ষা করবেনঃ

  
  ১. গোসলের সময়ঃ গোসলের সময় স্তনে সাবানের ফেনা লাগিয়ে ঐ পাশের হাত টি মুষ্টি বন্ধ করে মাথার পেছনে নিন। এবার অন্য হাতটি দিয়ে ভাল করে পরীক্ষা করুন যে কোন ফোঁড়া বা উচু কোন কিছু অনুভূত হয় কিনা। একই ভাবে অন্য স্তনটিও পরীক্ষা করুন।
  
  ২. আয়নার সামনে দাড়িয়েঃ আয়নার সামনে দাড়িয়ে দুই হাত নিচে রেখে লক্ষ্য করুন স্তনে অস্বাভাবিক কিছু পরিলক্ষিত হয় কিনা যেমন চামড়া কুঁচকে গেছে কিনা, নিপল ভেতরে ধুকে আছে কিনা বা নিপল্‌ থেকে পুঁজ জাতীয় কিছু বের হচ্ছে কিনা। এরপর হাত উচু করে একই ভাবে আবার পরীক্ষাটি করুন।
  

  কি কি ধরনের ব্রেস্ট ক্যান্সার আছে?

  
  ১. ফাইব্রএডিনোমা অব ব্রেস্টঃ এটি কম বয়সী মহিলাদের ভেতর বেশী দেখা যায়। এই টিউমারগুলো সাধারণত গোলাকার বা ডিম্বাকৃতির হয় এবং ধীরে ধীরে বড় হয়। যাদের বয়স ৪০ এর বেশী তাদের ফাইব্রএডিনোমা ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেরি না করে ম্যালিগন্যান্ট আছে কিনা সেজন্য টেস্ট করাতে হবে।
  
  ২. সিস্টিক হাইপারপ্ল্যাসিয়া অব ব্রেস্টঃ  এটিও অল্প বয়সী মহিলাদের বেশী হয় যাদের মাঝে মাঝে স্তনে ব্যথা হয় বিশেষ করে মাসিক নিয়মিত স্তনে ব্যথা হয়
  
  ৩. প্লাজমা সেল ম্যাস্টিটিসঃ এটি ব্যাকটেরিয়া মুক্ত প্রদাহ এবং এর ফলে স্তনের চামড়া কমলার খোসার মত হয়ে যায়। প্রায় ৪০% রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা যায় শুরুর দিকে অনেক ব্যথা থাকে এবং নিপলের আশে পাশে ডেলার মত দেখা যায়। এছাড়াও নিপল এবং চামড়ায় খাঁজ দেখা যায়।
  
  ৪. ব্রেস্ট নোডিউল্সঃ এর ফলে স্তনে জীবাণুর কারণে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ দেখা যায়। এই ক্যান্সারটি আস্তে আস্তে বিকশিত হয়। এই ধরনের ব্রেস্ট ক্যান্সারে স্তনের অভ্যন্তরে শক্ত ডেলা বা মাংশ পিণ্ডের মত অনুভূত হয় এবং এর কোন কোনটি সিস্‌টিক হয়ে থাকে।
  
  স্তন ক্যান্সার বর্তমানে অনেক বেশী দেখা যায় সুতরাং মডার্ন ক্যান্সার হসপিটাল গুয়াংজৌ আপনাকে নিয়মিত স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছে এবং কোন লক্ষণ দেখা মাত্রই দ্রুত চিকিৎসা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করছে।
scrollTop

কান্সারের ধরণ

মলাশয় ক্যান্সার
ফুসফুস কান্সার
গর্ভাশয়ের ক্যান্সার
পাকস্থলীর ক্যান্সার
বাকযন্ত্রের কান্সার
খাদ্যনালীর ক্যান্সার
পাকস্থলির ক্যান্সার
মস্তিস্কের ক্যান্সার
লিভার কান্সার
হাড়ের ক্যান্সার
স্কীন ক্যান্সার
যোনি ক্যান্সার
পিত্তকোষ
প্রোস্টেট ক্যান্সার
লিম্ফোমা
অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার
এন্ডওমেটরিয়াল ক্যান্সার
থাইরয়েড ক্যান্সার
পিত্তনালীর ক্যান্সার
মুখের ক্যান্সার
কিডনি ক্যান্সার
একাধিক মেলোমা
জিহ্বা ক্যান্সার
মূত্রাশয় ক্যান্সার
ডিউড্রেনাল ক্যান্সার
সফট টিস্যু ক্যান্সার
অ্যাড্রেনাল ক্যান্সার
Nasopharyngeal ক্যান্সার
testicular ক্যান্সার
লিউকেমিয়া
মলদ্বারে ক্যান্সার
চোখের কান্সার

প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি
জাদুকরী স্টিম সেল
গ্রীন কেমোথেরাপি-ক্যান্সার চিকিৎসায় এক অনন্য সংযোজন
পেট/সিটিঃ চিত্রের সাহায্যে কোষের বিপাক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে
টার্গেটেড জীন থেরাপিঃ ক্যান্সার নিরাময়ের একটি নতুন চিকিৎসা
ফোটন নাইফ : ত্রিমাত্রিক কনফর্মাল রঁজনরশ্মি দ্বারা চিকিত্সা ------ একাধিক ক্ষেত্র প্রযোজ্য, একত

খবর ও ঘটনা
ব্যক্তিগত প্রোফাইল
  বোয়াই অ্যান্টিক্যান্সার ক্লাব সদস্য সম্মেলন মডার্ণ ক্যান্সার হসপিটাল গুয়াংজৌ থেকে সফল ভাবে চিকিৎসা নিয়ে আসা রোগীদের সম্মেলন
চট্টগ্রামে মিনিম্যালি ইনভ্যাসিভ টার্গেটেড ক্যান্সার থেরাপি প্রযুক্তি সেমিনার
ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন আশা মিনিম্যালি ইনভ্যাসিভ টার্গেটেড ক্যান্সার থেরাপি প্রযুক্তি সেমিনার
চট্টগ্রামে চায়না এমডিটি বিশেষজ্ঞ দলের দ্বিতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত